প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: নতুন নিয়মে ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা ও ভর্তি প্রক্রিয়ার জরুরি গাইডলাইন
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের সবচেয়ে বড় মাধ্যম ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা’ নিয়ে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE)। আজ ২৫ মার্চ ২০২৬, বুধবার প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষা কেবল তারিখের দিক থেকেই নয়, বরং মান বণ্টন এবং ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও আমূল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আইনি জটিলতা ও নীতিমালার পরিবর্তনের কারণে গত বছর যে পরীক্ষাটি স্থগিত ছিল, সেটিও এবার নতুন নীতিমালার আলোকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
৪০০ নম্বরের নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি ও মান বণ্টন
এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সবচেয়ে বড় চমক হলো এর নম্বর বণ্টন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষাটি মোট ৪০০ নম্বরের ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠিত হবে। আগে যেখানে ১০০ নম্বরের একটি সমন্বিত পরীক্ষা হতো, সেখানে এবার প্রতিটি বিষয়ের গভীরতা যাচাইয়ে নম্বর বাড়ানো হয়েছে। বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিভাজন নিচে দেওয়া হলো:
- বাংলা: ১০০ নম্বর
- ইংরেজি: ১০০ নম্বর
- প্রাথমিক গণিত: ১০০ নম্বর
- প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (সমন্বিত): ১০০ নম্বর (প্রতিটি ৫০ নম্বর করে) প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ থাকবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবেন। বৃত্তি পাওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।
প্রবেশপত্র ডাউনলোড ও ডাটা এন্ট্রির সময়সূচি
অধিদপ্তরের নতুন নির্দেশনায় বেসরকারি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের তথ্য (DR) IPEMIS সফটওয়্যারে এন্ট্রি এবং প্রবেশপত্র প্রিন্টের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছে:
- ডাটা এন্ট্রি ও যাচাই: সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
- কেন্দ্র নির্বাচন: আগামী ২৬-২৮ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসাররা পরীক্ষার কেন্দ্র নির্বাচন করবেন।
- পরীক্ষক এন্ট্রি: ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিলের মধ্যে পরীক্ষক ও নিরীক্ষকদের তথ্য এন্ট্রি করতে হবে।
- প্রবেশপত্র সংগ্রহ: শিক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র আগামী ৬ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারবে।
পরীক্ষার তারিখ ও রুটিন
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুয়ায়ী, ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হতে পারে। সম্ভাব্য রুটিন অনুযায়ী:
- ১৫ এপ্রিল: বাংলা
- ১৬ এপ্রিল: ইংরেজি
- ১৭ এপ্রিল: প্রাথমিক গণিত
- ১৮ এপ্রিল: প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় উল্লেখ্য যে, পার্বত্য জেলাগুলোর (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) ক্ষেত্রে সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।
কোটা ও বৃত্তির হার
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীদের সমানুপাতিক হারে (৫০ শতাংশ করে) নির্বাচন করা হবে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সংরক্ষিত থাকবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে কিন্ডারগার্টেনসহ অন্যান্য বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন, যা তাদের চতুর্থ শ্রেণির বার্ষিক মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে।
পরীক্ষার হলের ১০টি জরুরি নির্দেশনা
শিক্ষার্থীদের জন্য অধিদপ্তর থেকে কিছু কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
- প্রবেশপত্র ছাড়া কাউকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না।
- পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে।
- ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সাথে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- উত্তরপত্র জমা না দেওয়া পর্যন্ত বা পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কেউ হল ত্যাগ করতে পারবে না।
উপসংহার: মেধাবী জাতি গড়ার লক্ষে এক ধাপ এগিয়ে
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বিশেষ তত্ত্বাবধানে প্রণীত এই নতুন নীতিমালা দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। আধুনিক মান বণ্টন এবং প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এই পরীক্ষাটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ, নতুন এই সময়সূচি ও নিয়মাবলী অনুযায়ী দ্রুত শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও অনলাইন নিবন্ধন সম্পন্ন করুন।
