মিড-ডে মিল বিপর্যয়: পাউরুটি নেই, অনেক স্কুলে মিলছে না ডিমও

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু হওয়া মিড-ডে মিল (Mid-day Meal) কার্যক্রম বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। আজ ৫ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাউরুটি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এবং পুষ্টির প্রধান উৎস ডিমও পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বিশেষ তদারকি সত্ত্বেও স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহকারীদের গাফিলতি ও বাজেট জটিলতায় এই স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

মিড-ডে মিল সংকটের বর্তমান চিত্র

সরেজমিনে তদন্ত ও শিক্ষকদের দেওয়া তথ্যমতে:

  • পাউরুটি সরবরাহ বন্ধ: অনেক এলাকায় চুক্তিবদ্ধ বেকারিগুলো বকেয়া বিল না পাওয়ায় পাউরুটি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
  • ডিমের অনুপস্থিতি: উচ্চমূল্য ও পরিবহন সমস্যার অজুহাতে অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের পাতে ডিম তুলে দিতে পারছে না।
  • উপস্থিতিতে প্রভাব: মিড-ডে মিলের মান কমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলের অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার গত মাসের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে।

১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও পুষ্টি নিরাপত্তা

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা।

  1. সরাসরি তদারকি: মিড-ডে মিলের গুণগত মান যাচাই করতে প্রতিটি স্কুলের রান্নাঘর ও ডাইনিং এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
  2. ফ্রি ড্রেস ও কেডস: সরকার যখন ২ লাখ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর মাঝে ফ্রি ড্রেস ও কেডস বিতরণ করছে, তখন খালি পেটে সেই ড্রেস পরে ক্লাসে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি এক বড় পরিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  3. ডিজিটাল ট্র্যাকিং: কোন স্কুলে কতজন শিক্ষার্থী খাবার পেল, তা ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমে ট্র্যাকিং করার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

২০২৬ ও ২০২৭ সালের শিক্ষা সংস্কারের চ্যালেঞ্জ

২০২৬ ও ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় পরিবর্তন এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র পদ্ধতি সফল করতে হলে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ভিত্তি মজবুত হতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সাল থেকে পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, তার জন্য শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় স্কুলে থাকা প্রয়োজন। আর দীর্ঘ সময় স্কুলে থাকতে হলে মানসম্মত মিড-ডে মিলের কোনো বিকল্প নেই।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্বেগ

জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ মানুষ শিক্ষক রাজনীতির বিপক্ষে মত দিয়েছেন। অভিভাবকরা মনে করেন, শিক্ষকরা যদি রাজনৈতিক কাজে ব্যস্ত না থেকে মিড-ডে মিলের তদারকিতে বেশি সময় দিতেন, তবে এই অব্যবস্থাপনা রোধ করা সম্ভব হতো। (উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করা হয়েছে, যা নতুন ও উদ্যমী শিক্ষকদের এই ধরণের সামাজিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অনুপ্রাণিত করবে)।

সমাধানে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মিড-ডে মিলের বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থ ছাড় করা হচ্ছে। এছাড়া যে সকল সরবরাহকারী পাউরুটি বা ডিম দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের চুক্তি বাতিল করে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হবে। এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ১২,৯ ৫১ জন প্রতিষ্ঠান প্রধানকেও এই বিষয়ে কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী মিলন।

উপসংহার: ক্ষুধার্ত পেটে স্মার্ট শিক্ষা অসম্ভব

মিড-ডে মিলের এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে ২০২৬ সালের স্মার্ট শিক্ষা লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পারে। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে পরিচালিত আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যই হবে প্রথম অগ্রাধিকার। প্রযুক্তির পাশাপাশি মৌলিক চাহিদা পূরণ করলেই গড়ে উঠবে ২০২৬ সালের উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ—এটাই এখন দেশবাসীর প্রত্যাশা।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *