গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্যের চমক: ‘বি’ ইউনিটে প্রথম হয়ে দেশসেরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মিজান
দেশের ২৪টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সমন্বিত গুচ্ছ (GST) ভর্তি পরীক্ষার মানবিক বিভাগ তথা ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় মেধার অনন্য স্বাক্ষর রেখে সারাদেশে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কৃতি সন্তান মিজানুর রহমান।
আজ ৬ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার বিকেলে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। মিজানুরের এই অভাবনীয় সাফল্যে তার পরিবার, শিক্ষক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
ফলাফলের বিস্তারিত ও মিজানের অর্জন
ভর্তি পরীক্ষা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের ‘বি’ ইউনিটে পাসের হার এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল অত্যন্ত বেশি।
- মিজানের প্রাপ্ত নম্বর: মিজানুর রহমান ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ৮৭.৭৫ পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।
- সাফল্যের নেপথ্যে: মিজানুর তার এই সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অধ্যাবসায় এবং তার শিক্ষকদের দিকনির্দেশনাকে। তিনি ভবিষ্যতে একজন দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়ে দেশের সেবা করতে চান।
- পাসের হার: এবারের গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিটে পাসের হার গত বছরের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের গুণগত মানোন্নয়নের ইঙ্গিত দেয়।
১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও উচ্চশিক্ষা
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো উচ্চশিক্ষা স্তরে স্বচ্ছতা ও মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।
- স্মার্ট ভর্তি পদ্ধতি: গুচ্ছ পদ্ধতির মাধ্যমে ভোগান্তি কমিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
- ডিজিটাল মনিটরিং: সিসিটিভি ক্যামেরা ও আধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এবারের ভর্তি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ ওঠেনি।
- এনটিআরসিএ ও ভবিষ্যৎ শিক্ষক: মিজানুরের মতো মেধাবীরাই ভবিষ্যতে এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশায় এসে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৬ ও ২০২৭ সালের শিক্ষা সংস্কারের প্রভাব
২০২৬ ও ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় পরিবর্তন এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র পদ্ধতির পর উচ্চশিক্ষার এই স্বচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সাল থেকে পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, তার ফলে উচ্চশিক্ষার সেশন জট চিরতরে নিরসন হবে। (উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি সরকারি চাকরির বয়সসীমা ৩২ বছর করা হয়েছে, যা মিজানুরদের মতো মেধাবীদের জন্য ক্যারিয়ারের এক বিশাল দিগন্ত উন্মোচন করেছে)।
সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য অনুপ্রেরণা
মিজানুর রহমানের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক সুযোগ ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো প্রান্তিক এলাকা থেকেও দেশসেরা হওয়া সম্ভব। সরকার যখন ২ লাখ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর মাঝে ফ্রি ড্রেস ও কেডস বিতরণ এবং প্রতিটি স্কুলে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করছে, তখন মিজানের এই জয় তৃণমূলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
ভর্তিচ্ছুদের জন্য পরবর্তী নির্দেশনা
গুচ্ছ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীদের খুব শীঘ্রই পছন্দক্রম বা চয়েস লিস্ট প্রদানের সুযোগ দেওয়া হবে। বিস্তারিত তথ্য গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (gstadmission.ac.bd) পাওয়া যাবে।
উপসংহার: মেধাবী প্রজন্মের জয়গান
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মিজানের এই অর্জন কেবল তার একার নয়, এটি পুরো বাংলাদেশের উদীয়মান মেধাবী প্রজন্মের জয়। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে পরিচালিত আধুনিক ও স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থার সুফল এখন দৃশ্যমান। মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে ২০২৬ সালের উন্নত ও ডিজিটাল বাংলাদেশ—এটাই এখন সকলের প্রত্যাশা।
