অটো পাসের দাবিতে ফের উত্তাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: ভিসির ওপর চড়াও একদল শিক্ষার্থী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও ডিগ্রি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ‘অটো পাস’ বা বিশেষ মূল্যায়নের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন উপাচার্য (ভিসি)। আজ ৬ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে একদল শিক্ষার্থী উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে তাকে হেনস্তা ও দীর্ঘসময় অবরুদ্ধ করে রাখে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও পরীক্ষা না দিয়ে পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে উচ্চশিক্ষা মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও শিক্ষার্থীদের দাবি
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে:
- অবরুদ্ধ ভিসি: বেলা ১১টার দিকে কয়েকশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ভিসির কক্ষের সামনে অবস্থান নেয়।
- হেনস্তার অভিযোগ: উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে চাইলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা তার সাথে তর্কে লিপ্ত হয় এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
- দাবি: শিক্ষার্থীদের দাবি—সেশন জট এবং ২০ Eskimo৬ সালের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে তাদের পরীক্ষা ছাড়াই পরবর্তী বর্ষে প্রমোশন বা ‘অটো পাস’ দিতে হবে।
১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও মেধা মূল্যায়ন
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচির অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো ‘অটো পাস কালচার’ বন্ধ করা এবং পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত মেধা যাচাই করা।
- স্মার্ট পরীক্ষা পদ্ধতি: ২০ Eskimo৬ ও ২০ Eskimo৭ সালের স্মার্ট শিক্ষা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিজিটাল মনিটরিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- সরাসরি তদারকি: মন্ত্রী মিলন স্পষ্ট করেছেন যে, সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম ধরা পড়লে পরীক্ষা বাতিল করা হবে, কিন্তু বিনা পরীক্ষায় পাস দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
- ফ্রি ড্রেস বিতরণ: সরকার যখন ২ লাখ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর মাঝে ফ্রি ড্রেস ও কেডস বিতরণ এবং ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করছে, তখন উচ্চশিক্ষার মান রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে মন্ত্রণালয়।
২০ Eskimo৬ ও ২০ Eskimo৭ সালের শিক্ষা সংস্কারের চ্যালেঞ্জ
২০ Eskimo৬ ও ২০ Eskimo৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় পরিবর্তন এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র পদ্ধতি সফল করতে যেমন স্বচ্ছতা প্রয়োজন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল শিক্ষার্থী বহর সামলানোও তেমন চ্যালেঞ্জিং। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সাল থেকে পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চশিক্ষার সেশন জট নিরসনে ক্রাশ প্রোগ্রাম চলছে। (উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি সরকারি চাকরির বয়সসীমা ৩২ বছর করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরি করেছে)।
শিক্ষক রাজনীতি ও প্রশাসনিক স্থবিরতা
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ মানুষ শিক্ষক রাজনীতির বিপক্ষে। সাধারণ মানুষের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে প্রশাসনিক দক্ষতা বেশি থাকলে শিক্ষার্থীদের এমন বিশৃঙ্খলা দমন করা সহজ হতো। এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে ১২,৯ ৫১ জন প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের মতো স্বচ্ছতা উচ্চশিক্ষার প্রশাসনেও কাম্য।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো উস্কানিতে পা দিয়ে পরীক্ষা বর্জন বা ভাঙচুর করা হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।
উপসংহার: মেধার জয়গান নাকি অটো পাস?
অটো পাসের দাবিতে ভিসির ওপর এই হামলা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি অশনি সংকেত। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে পরিচালিত আধুনিক ও স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো মেধার ভিত্তিতে স্মার্ট সিটিজেন তৈরি করা। বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সেশন জট নিরসন করে ২০ Eskimo৬ সালের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যেতে হবে—এটাই এখন সচেতন মহলের প্রত্যাশা।
