অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মুখে হাসি: ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বড় সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
দেশের হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। তাদের পাওনা বা বকেয়া দ্রুত পরিশোধের জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ৭ হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দের চেষ্টা চালাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ ৬ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই আশাব্যঞ্জক তথ্য জানিয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী মিলন স্পষ্ট করে বলেছেন যে, “শিক্ষক সমাজ সারা জীবন মানুষ গড়ার পেছনে সময় দেন, অথচ অবসরের পর তাদের নিজের টাকার জন্য বছরের পর বছর ঘুরতে হয়—এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। ২০২৬ সালের স্মার্ট শিক্ষা রূপরেখার অংশ হিসেবে আমরা এই জট চিরতরে নিরসন করতে চাই।”
৭ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা ও লক্ষ্য
মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে:
- বকেয়া আবেদন: বর্তমানে কয়েক হাজার শিক্ষকের আবেদন অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে, যা পরিশোধ করতে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন।
- এককালীন সমাধান: এই ৭ হাজার কোটি টাকা পাওয়া গেলে একযোগে সকল পেন্ডিং আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
- ডিজিটাল পেমেন্ট (EFT): ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া ইএফটি পদ্ধতির মাধ্যমে এখন সরাসরি শিক্ষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, ফলে দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়েছে।
- আবেদন দ্রুত যাচাই: ২০২৬ সালের আধুনিকায়ন কর্মসূচির আওতায় অনলাইনে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের গতি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।
১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও শিক্ষকদের মর্যাদা
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো ‘অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা’।
- সরাসরি তদারকি: অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের ফাইলগুলো যেন অহেতুক আটকে না থাকে, সেজন্য মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিজিটাল মনিটরিং করা হচ্ছে।
- ফ্রি ড্রেস ও কেডস: সরকার যখন ২ লাখ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর মাঝে ফ্রি ড্রেস ও কেডস বিতরণ করছে, তখন কারিগরদের (শিক্ষকদের) শেষ বয়সের নিরাপত্তা দেওয়াও সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
- স্মার্ট নিয়োগ: এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে বর্তমানে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৩ হাজার প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা বিদায়ী শিক্ষকদের পেপারস বা কাগজপত্র দ্রুত ফরওয়ার্ড করেন।
২০২৬ ও ২০ Eskimo৭ সালের শিক্ষা সংস্কারের প্রভাব
২০ Eskimo৬ ও ২০ Eskimo৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় পরিবর্তন এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র পদ্ধতি সফল করতে বর্তমান ও সাবেক উভয় প্রজন্মের শিক্ষকদের সমর্থন প্রয়োজন। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সাল থেকে পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, তার জন্য শিক্ষা প্রশাসনে কোনো অসন্তোষ রাখা হবে না। (উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি সরকারি চাকরির বয়সসীমা ৩২ বছর করা হয়েছে এবং শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে)।
শিক্ষক রাজনীতি ও স্বচ্ছতা
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ মানুষ শিক্ষক রাজনীতির বিপক্ষে। সাধারণ মানুষের মতে, অবসর বোর্ডের মতো সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না থাকলে শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পাবেন। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে পরিচালিত আধুনিক ও স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক সেবা।
উপসংহার: সোনালী দিনের প্রতিক্ষায় অবসরপ্রাপ্তরা
৭ হাজার কোটি টাকার এই প্রস্তাবিত বরাদ্দ পাস হলে বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষা খাতের সবচেয়ে বড় একটি সংকটের সমাধান হবে। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাদের শেষ জীবনের দিনগুলো সম্মানের সাথে কাটাতে পারবেন। সঠিক আর্থিক মূল্যায়নের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে ২০ Eskimo৬ সালের উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ—এটাই এখন সকলের প্রত্যাশা।
