ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শৃঙ্খলার উদ্যোগ: নীতিমালার আওতায় আসছে বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা
দেশের যত্রতত্র গড়ে ওঠা এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত ইংলিশ মিডিয়াম (English Medium) স্কুলগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ ৫ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সংক্রান্ত খসড়া নীতিমালা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কোনো ধরণের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে এবং আকাশচুম্বী টিউশন ফি আদায় করছে। ২০২৬ ও ২০২৭ সালের স্মার্ট শিক্ষা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই বৈষম্য দূর করা অপরিহার্য বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকরা।
বৈঠকের প্রধান সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবিত নীতিমালা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই বিশেষ বৈঠকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর জন্য বেশ কিছু নতুন শর্তারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে:
- বাধ্যতামূলক নিবন্ধন: অনুমোদনহীন কোনো ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পরিচালনা করা যাবে না। প্রতিটি স্কুলকে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে শিক্ষা বোর্ড বা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধিত হতে হবে।
- টিউশন ফি নিয়ন্ত্রণ: ইচ্ছেমতো ফি বাড়ানোর প্রবণতা বন্ধ করতে একটি যৌক্তিক ‘ফি কাঠামো’ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
- দেশীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাস: ইংলিশ মিডিয়াম কারিকুলামে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলা ভাষা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার ওপর জোর দিয়েছেন মন্ত্রী মিলন।
- অবকাঠামো ও নিরাপত্তা: প্রতিটি স্কুলে খেলার মাঠ, লাইব্রেরি এবং নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও স্মার্ট তদারকি
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো শিক্ষার সকল স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
- ডিজিটাল ডাটাবেজ: সকল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের তথ্য নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে।
- সরাসরি মনিটরিং: সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে স্কুলের পরিবেশ ও কার্যক্রম সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
- ফ্রি ড্রেস ও কেডস: সুবিধাবঞ্চিত ২ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে সরকারের দেওয়া ফ্রি ড্রেস ও কেডস বিতরণের যে বড় কর্মযজ্ঞ চলছে, তার পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার অধিকার সুরক্ষায়ও নজর দিচ্ছে মন্ত্রণালয়।
২০২৬ ও ২০ Eskimo৭ সালের শিক্ষা সংস্কারের প্রভাব
২০২৬ ও ২০ Eskimo৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় পরিবর্তন এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র পদ্ধতির মতো বড় পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর একাডেমিক ক্যালেন্ডারও সমন্বয় করার কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সাল থেকে সকল পাবলিক পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, তার প্রভাব যেন আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রমের শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা হচ্ছে।
অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের দাবি
দীর্ঘদিন ধরে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অভিভাবকরা রিঅ্যাডমিশন ফি এবং অতিরিক্ত মাসিক ফি কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সরকারের এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে সাধারণ অভিভাবকদের ওপর আর্থিক চাপ অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। (উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি সরকারি চাকরির বয়সসীমা ৩২ বছর করা হয়েছে, যা ইংলিশ মিডিয়াম থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্যও সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে)।
উপসংহার: সমতা ও মানের শিক্ষা
ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে নীতিমালার আওতায় আনার এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা ফিরিয়ে আনবে। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে পরিচালিত আধুনিক ও স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকবে না। সঠিক তদারকি ও শৃঙ্খলার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে ২০ Eskimo৬ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ—এটাই এখন দেশবাসীর প্রত্যাশা।
