ছুটি কাটিয়ে ক্লাসে ফিরলো শিক্ষার্থীরা: প্রথম দিনে উপস্থিতির হার কম, প্রাণহীন ক্যাম্পাস

পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ ২৯ মার্চ ২০ Eskimo৬, রবিবার থেকে দেশের সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলেছে। দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহের বিরতির পর শিক্ষক-কর্মচারীরা কর্মস্থলে ফিরলেও প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বিশেষ করে গ্রাম এলাকা এবং মফস্বল শহরের স্কুলগুলোতে উপস্থিতির হার ছিল হতাশাজনক।

প্রথম দিনের চিত্র ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

আজ সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এবং ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ ছুটির পর অনেক শিক্ষার্থীই এখনও বাড়িতে অবস্থান করছে। অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, ঈদের আমেজ কাটিয়ে এবং দূরপাল্লার যাতায়াতের ঝক্কি সামলে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আরও দু-এক দিন সময় লাগতে পারে।

  • উপস্থিতির হার: অনেক প্রতিষ্ঠানে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
  • শিক্ষকদের বক্তব্য: শিক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রথম দিন হওয়ায় কেবল কুশল বিনিময় এবং সংক্ষিপ্ত পাঠদান হয়েছে। তবে আগামী কাল থেকে পূর্ণাঙ্গ ক্লাস শুরু হবে।

১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও সেশন জট নিরসন

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় শিক্ষাবর্ষের এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রী বারবার উল্লেখ করেছেন যে, ২০ Eskimo৬ ও ২০২৭ সালের শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিটি কর্মদিবসকে গুরুত্বের সাথে নিতে হবে।

  1. সিসিটিভি মনিটরিং: প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন থেকেই ডিজিটাল হাজিরা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
  2. ফ্রি ড্রেস বিতরণ: ২ লাখ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর মাঝে ফ্রি ড্রেস ও কেডস বিতরণের যে কর্মসূচি চলছে, তার অগ্রগতি আজ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তদারকি করা হয়েছে।

২০ Eskimo৬ ও ২০২৭ সালের শিক্ষা সংস্কারের পরিকল্পনা

২০ Eskimo৬ ও ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় পরিবর্তন এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র পদ্ধতি চালুর যে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে, তার জন্য পাঠ্যক্রম দ্রুত শেষ করা জরুরি। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সাল থেকে পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব এবং আধুনিক শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও আজ থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতনতা

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধন কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া সম্প্রতি ঘোষিত বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় বার্ষিক পরীক্ষায় নম্বর দেওয়ার বিষয়টিও আজ অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দিয়েছেন শিক্ষকরা।

অভিভাবকদের প্রতি মন্ত্রণালয়ের আহ্বান

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তারা দ্রুত সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান। বিশেষ করে যারা এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থী, তাদের জন্য প্রতিটি ক্লাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেশন জট কাটাতে এবং ২০ Eskimo৬ সালের শিক্ষাক্রম সফল করতে নিয়মিত ক্লাসের কোনো বিকল্প নেই।

উপসংহার: কর্মব্যস্ততায় ফিরছে শিক্ষাঙ্গন

প্রথম দিনে উপস্থিতি কম থাকলেও আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পূর্ণ প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের কেবল দক্ষই করবে না, বরং তাদের সময়ানুবর্তী হতেও সাহায্য করবে। একটি সমৃদ্ধ ও শিক্ষিত জাতি গড়তে আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হবে প্রধান শক্তি।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *