ডিআইএ (DIA) কি দুর্নীতির আখড়া? তদন্তের নামে এমপিও আদায়ের মহোৎসব
বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা ছিল যে প্রতিষ্ঠানের, সেই পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (DIA) এখন নিজেই বিতর্কের কেন্দ্রে। বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পরিদর্শনে গিয়ে অডিটের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির এক শ্রেণির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি অভিযোগ উঠেছে, তদন্তে গেলেই অনেক কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক-কর্মচারীর এক মাসের পুরো এমপিও (MPO) টাকা ঘুষ হিসেবে দাবি করেন।
আজ ৯ এপ্রিল ২০ Eskimo৬, বৃহস্পতিবার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ডিআইএ-র এই দুর্নীতির সিন্ডিকেট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত অনেক সরকারি কলেজের শিক্ষক এখন ক্লাসরুম ছেড়ে ডিআইএ-তে বদলি হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন, যার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সেখানকার ‘অবৈধ আয়ের’ সুযোগ।
ঘুষের নতুন রেট: ১ মাসের এমপিও!
ডিআইএ-র তদন্ত ও অডিট নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী:
- জোরপূর্বক আদায়: তদন্ত দল কোনো প্রতিষ্ঠানে গেলেই ভয়ভীতি দেখিয়ে বলা হয়, “রিপোর্ট ভালো চাইলে সবাইকে এক মাসের বেতন দিতে হবে।”
- হয়রানির ভয়: যারা টাকা দিতে রাজি হন না, তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া অডিট রিপোর্ট বা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এমপিও বন্ধের সুপারিশ করার হুমকি দেওয়া হয়।
- মাদরাসা ও কলেজে প্রকট: বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাদরাসা ও বেসরকারি কলেজগুলো এই সিন্ডিকেটের সহজ শিকারে পরিণত হয়েছে।
কেন ডিআইএ-তে বদলির ইঁদুর দৌড়?
শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, শিক্ষা ক্যাডারের অনেকেই এখন শিক্ষকতার চেয়ে ডিআইএ-তে ডেপুটেশনে আসাকে বেশি লাভজনক মনে করছেন। মন্ত্রীর মতে: ১. তদন্তের নামে বাণিজ্য: সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলেও অনেকে প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে ডিআইএ-র তদন্ত দলে নাম লেখান। ২. স্বচ্ছতার অভাব: অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়া এবং তা মূল্যায়নের প্রক্রিয়ায় যে দীর্ঘসূত্রতা থাকে, তাকে কাজে লাগিয়েই দফারফা করা হয়। ৩. বিলাসবহুল জীবন: ডিআইএ-তে কর্মরত অনেক কর্মকর্তার আয়ের সাথে জীবনযাত্রার মানের আকাশ-পাতাল পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে, যা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষা প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করা।
- ডিজিটাল অডিট: ডিআইএ-র এই এনালগ অডিট পদ্ধতি তুলে দিয়ে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও অনলাইন অডিট সিস্টেম চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
- সিসিটিভি ও মনিটরিং: ডিআইএ-র প্রতিটি কার্যক্রম এবং কর্মকর্তাদের মুভমেন্ট সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা ও জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তদারকি করা হবে।
- অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (GRS): যদি কোনো কর্মকর্তা টাকা দাবি করেন, তবে সরাসরি হটলাইন বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রতিটি ফাইলে ডিজিটাল ফাইল ট্র্যাকিং সিস্টেম কার্যকর করা হয়েছে।
২০ Eskimo৬ ও ২০ Eskimo৭ সালের শিক্ষা সংস্কার ও শিক্ষকদের মর্যাদা
২০ Eskimo৬ ও ২০ Eskimo৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় পরিবর্তন এবং ২০২৭ সাল থেকে পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, তা সফল করতে হলে শিক্ষকদের মানসিক প্রশান্তি জরুরি।
- শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধ: মন্ত্রী মিলন মনে করেন, শিক্ষকদের যদি অডিটের নামে হয়রানি করা হয়, তবে তারা ক্লাসে পাঠদানে মনোযোগ দিতে পারবেন না।
- চাকরির বয়সসীমা: সরকারি চাকরির বয়সসীমা ৩২ বছর করার কারণে এখন অনেক মেধাবী তরুণ শিক্ষকতায় আসছেন। তাদের আদর্শিক পরিবেশ দিতে হলে ডিআইএ-র মতো প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে।
(উল্লেখ্য যে, সরকার ইতিমধ্যে ২ লাখ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর মাঝে ফ্রি ড্রেস ও কেডস বিতরণ করেছে। এই জনকল্যাণমূলক কাজের তদারকিতেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় মন্ত্রণালয়)।
শিক্ষক রাজনীতি বনাম পরিদর্শন ব্যবস্থা
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ মানুষ শিক্ষক রাজনীতির বিপক্ষে। কিন্তু ডিআইএ-র অনেক কর্মকর্তা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে দিনের পর দিন এই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থাপনা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেখানে কেবল মেধা ও সততার মূল্যায়ন হবে।
উপসংহার: শৃঙ্খলার পথে আগামীর স্মার্ট শিক্ষা প্রশাসন
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (DIA) এই ইমেজ সংকট দূর করা সময়ের দাবি। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কঠোর অবস্থান এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে এই ঘুষ সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব। সঠিক তদারকি ও প্রচেষ্টার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে ২০ Eskimo৬ সালের সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ।
