মাদ্রাসা প্রধান নিয়োগে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক: অধিদপ্তর ও এনটিআরসিএ-র নতুন কঠোর নীতিমালা
দেশের বেসরকারি মাদ্রাসাগুলোতে (কামিল, ফাজিল, আলিম ও দাখিল) যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রশাসনিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। আজ ২৯ মার্চ ২০২৬, রোববার মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক নতুন পরিপত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এখন থেকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (Principal) ও সুপারিনটেনডেন্ট পদের জন্য এমপিওভুক্ত পদে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বিশেষ নির্দেশনায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।
অভিজ্ঞতার নতুন মানদণ্ড ও অধিদপ্তরের পরিপত্র
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে জানানো হয়েছে, পূর্বে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার সময়সীমা ১২ থেকে ১৫ বছর থাকলেও, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে এটি ১৮ বছর করা হয়েছে।
- অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ: কামিল বা ফাজিল মাদ্রাসায় এই পদে আবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের শিক্ষক হিসেবে ১৮ বছরের এমপিওভুক্ত অভিজ্ঞতা লাগবে।
- সুপারিনটেনডেন্ট: দাখিল বা আলিম মাদ্রাসার প্রধান পদের ক্ষেত্রেও একই অভিজ্ঞতার শর্ত প্রযোজ্য হবে।
- এনটিআরসিএ নিয়োগ: বর্তমানে চলমান ১২,৯ ৫১টি শূন্যপদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও এই নতুন ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার শর্তটি যুক্ত করা হয়েছে।
১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও স্বচ্ছতা
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও প্রবীণ শিক্ষকদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
- সিসিটিভি ও ডিজিটাল মনিটরিং: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের জালিয়াতি রোধে এনটিআরসিএ এবং অধিদপ্তর থেকে ডিজিটাল ডেটাবেজ ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা যাচাই করা হচ্ছে।
- মেধা ও সিনিয়রিটি: মন্ত্রী বারবার উল্লেখ করেছেন যে, “মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও স্মার্ট করতে হলে অভিজ্ঞ অভিভাবকদের প্রয়োজন।” এই লক্ষ্যেই ১৮ বছরের এই কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় শর্তটিারোপ করা হয়েছে।
২০২৬ ও ২০২৭ সালের শিক্ষা সংস্কারের প্রভাব
২০২৬ ও ২০২৭ সালের দাখিল ও আলিম পরীক্ষার সময় পরিবর্তন এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র পদ্ধতি চালুর যে প্রক্রিয়া চলছে, তা বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ভূমিকা অপরিসীম। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মতে, একজন অভিজ্ঞ প্রধান শিক্ষক ছাড়া নতুন শিক্ষাক্রম এবং সেশনজট নিরসন প্রকল্পগুলো সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ২০২৭ সাল থেকে পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার প্রশাসনিক প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু হয়েছে।
আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে যারা আবেদন করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:
- নতুন আবেদন: যারা আগে আবেদন করেছিলেন কিন্তু নতুন শর্তে অযোগ্য হয়ে পড়েছেন, তাদের আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে এবং নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যোগ্যদের পুনরায় আবেদন করতে হবে।
- কাগজপত্র যাচাই: নিয়োগের সুপারিশ পাওয়ার পর প্রার্থীর প্রথম এমপিও কপি থেকে শুরু করে অভিজ্ঞতার সকল নথি অধিদপ্তর থেকে কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।
সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য বিশেষ নজর
সরকার যখন ২ লাখ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর মাঝে ফ্রি ড্রেস ও কেডস বিতরণ এবং প্রতিটি মাদ্রাসা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মতো আধুনিকায়নমূলক কাজ করছে, তখন মাদ্রাসাগুলোর প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচন করা সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
উপসংহার: মাদ্রাসা শিক্ষায় নতুন যুগের সূচনা
মাদ্রাসা প্রধান নিয়োগে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার এই সিদ্ধান্তটি দীর্ঘমেয়াদে মাদ্রাসা শিক্ষার মান বাড়াতে সহায়ক হবে। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদেরও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলবে—এটাই এখন দেশবাসীর প্রত্যাশা। নতুন নিয়ম মেনে যোগ্য প্রার্থীদের আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
