স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ জনবলই চাবিকাঠি: কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে শিক্ষামন্ত্রীর মহাপরিকল্পনা

বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে (Technical and Vocational Education) আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ ৫ এপ্রিল ২০ Eskimo৬, রোববার এক অনুষ্ঠানে তিনি দেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং তা উত্তরণের আধুনিক রূপরেখা তুলে ধরেন।

মন্ত্রী মিলন স্পষ্ট করে বলেছেন যে, কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষা দিয়ে বিশ্ববাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয়। ২০ Eskimo৬ ও ২০ Eskimo৭ সালের স্মার্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কারিগরি শিক্ষাকে অবশ্যই ‘ইন্ডাস্ট্রি-ওরিয়েন্টেড’ বা শিল্পনির্ভর হতে হবে।

আধুনিকায়নের প্রধান ৪টি স্তম্ভ

শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে ৪টি বিশেষ ক্ষেত্রের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন:

  1. ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া ব্রিজ: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প-কারখানার মধ্যে একটি মজবুত সমন্বয় তৈরি করা হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা যা শিখছে, তা সরাসরি কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারে।
  2. ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর জোর: পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুলগুলোতে অতিরিক্ত তাত্ত্বিক (Theoretical) পড়াশোনার চেয়ে হাতে-কলমে (Practical) কাজের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  3. আধুনিক কারিকুলাম: ২০ Eskimo৬ সালের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিগরি সিলেবাসে রোবোটিক্স, এআই (AI) এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে।
  4. পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP): বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তায় সরকারি ল্যাবগুলোকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও ডিজিটাল ল্যাব

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় কারিগরি শিক্ষার জন্য রয়েছে বিশেষ বরাদ্দ।

  • ডিজিটাল ট্র্যাকিং: কারিগরি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে একটি সেন্ট্রাল ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে।
  • সরাসরি তদারকি: প্রতিটি ল্যাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে যাতে ব্যবহারিক ক্লাসগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হয়।
  • ফ্রি ড্রেস ও কেডস: সুবিধাবঞ্চিত ২ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে সরকারের দেওয়া ফ্রি ড্রেস ও কেডস বিতরণের কর্মসূচিতে কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কারিগরি কিট বা টুলবক্স প্রদানের বিষয়টিও মন্ত্রী বিবেচনা করছেন।

২০ Eskimo৬ ও ২০ Eskimo৭ সালের বৈদেশিক শ্রমবাজার

মন্ত্রী মিলন তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের কথা উল্লেখ করে বলেন, “বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে জনশক্তি কমছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল সুযোগ।”

  • দক্ষ কর্মী রপ্তানি: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে দক্ষ কারিগরি কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর সুযোগ আরও প্রসারিত করা হবে।
  • বিদেশে উচ্চ বেতনের নিশ্চয়তা: সাধারণ শ্রমিকের বদলে দক্ষ টেকনিশিয়ান হিসেবে বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সরকারের ২০ Eskimo৭ সালের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

শিক্ষক ও অবকাঠামো উন্নয়ন

কারিগরি শিক্ষায় শুধু ছাত্র নয়, শিক্ষকদেরও আধুনিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত ১২,৯ ৫১ জন প্রতিষ্ঠান প্রধানের একটি বড় অংশ কারিগরি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাবেন, যাদের প্রধান কাজ হবে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা। (উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করা হয়েছে, যা কারিগরি শিক্ষায় অভিজ্ঞদের প্রবেশের পথ আরও সুগম করেছে)।

উপসংহার: মেধার সাথে দক্ষতার সমন্বয়

পরিশেষে, ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের এই আধুনিক রূপরেখা কারিগরি শিক্ষাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই সেক্টরটিই হবে প্রধান চালিকাশক্তি। মেধা ও যান্ত্রিক দক্ষতার মাধ্যমেই ২০ Eskimo৬ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে—এটাই এখন সকলের প্রত্যাশা।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *