শিক্ষা

ইবিতে আবাসন সংকট: প্রভোস্টকে তালাবদ্ধ করে ছাত্রীদের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আবাসিক হলের সিট সংক্রান্ত জটিলতা এবং চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সাধারণ ছাত্রীরা হলের প্রভোস্টকে তাঁর নিজ কক্ষে তালাবদ্ধ করে দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। শনিবার (৯ মে ২০২৬) রাতভর চলা এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। মূলত দীর্ঘদিন ধরে হলের সিট বণ্টনে অনিয়ম এবং বৈধ শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।


আবাসন সংকট ও হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

বিক্ষুব্ধ ছাত্রীদের দাবি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের হলগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী অবস্থান করায় তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বৈধভাবে সিট বরাদ্দ পাওয়ার পরেও অনেক শিক্ষার্থী হলে উঠতে পারছেন না। অন্যদিকে, প্রশাসনের উদাসীনতায় কিছু অছাত্রী ও অননুমোদিত ব্যক্তি হলের সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ছাত্রীদের উত্থাপিত প্রধান সমস্যাগুলো হলো:

  • সিট বণ্টনে অনিয়ম: জ্যেষ্ঠতা বা মেধার ভিত্তিতে সিট না দিয়ে অননুমোদিত ব্যক্তিদের হলে থাকার সুযোগ দেওয়া।
  • নিম্নমানের খাবার: হলের ডাইনিংয়ে খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমুখী এবং অস্বাস্থ্যকর।
  • পরিকাঠামোগত সমস্যা: হলের শৌচাগার ও পানির তীব্র সংকট এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব।
  • প্রশাসনিক উদাসীনতা: বারবার লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রভোস্টের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া।

ছাত্রীদের ৫ দফা দাবি ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও ছাত্রীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকেন। এক পর্যায়ে তারা প্রভোস্টের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। আন্দোলনকারী ছাত্রীরা তাদের অধিকার আদায়ে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছেন:

১. অবৈধ উচ্ছেদ: অছাত্রী ও অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের দ্রুত হল থেকে বের করতে হবে।

২. স্বচ্ছ বরাদ্দ: জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রকৃত ছাত্রীদের সিট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

৩. খাবারের মান: ডাইনিংয়ের খাবারের মান দ্রুত উন্নত করতে হবে।

৪. পরিচ্ছন্নতা: হলের শৌচাগার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে হবে।

৫. নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: হলের সীমানা প্রাচীর সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।


প্রক্টরিয়াল বডির আশ্বাস ও বর্তমান পরিস্থিতি

গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি এবং ছাত্র উপদেষ্টা আন্দোলনকারীদের সাথে দীর্ঘ আলোচনায় বসেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অবৈধ সিট উচ্ছেদ এবং মেধার ভিত্তিতে আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়। এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে কয়েক ঘণ্টা পর প্রভোস্টের কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনা তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে ছাত্রীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তারা পুনরায় আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করবেন। বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।


FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

প্রশ্ন ১: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা কেন প্রভোস্টকে তালাবদ্ধ করেছিলেন?

উত্তর: হলের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট, সিট বণ্টনে অনিয়ম, অবৈধ ছাত্রীদের অবস্থান এবং খাবারের নিম্নমানের প্রতিবাদে ছাত্রীরা এই কঠোর পদক্ষেপ নেন।

প্রশ্ন ২: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

উত্তর: প্রক্টরিয়াল বডি দ্রুত অবৈধ সিট উচ্ছেদের আশ্বাস দিয়েছে এবং হলের অব্যবস্থাপনা তদন্তে একটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।


উপসংহার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনাটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার একটি রূঢ় চিত্র। শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। কেবল আশ্বাস নয়, বরং দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমেই ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক করা সম্ভব। আমরা আশা করি, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়।

আবাসন সংক্রান্ত সঠিক তথ্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ আপডেট জানতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটের সাথে থাকুন। যেকোনো যৌক্তিক দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকা জরুরি। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *