ভর্তি

অ্যাসেট (ASSET) প্রকল্পের আরপিএল প্রোগ্রামে আবেদন শুরু: আপনার কাজের অভিজ্ঞতাকে রূপান্তর করুন সরকারি সনদে

দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিচালিত ‘অ্যাসেট’ (ASSET) প্রকল্পের অধীনে আরপিএল (Recognition of Prior Learning) প্রোগ্রামে এনরোলমেন্টের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই হাতে-কলমে কাজ শিখেছেন কিন্তু কোনো স্বীকৃতি বা সনদ নেই, তাদের দক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


আরপিএল (RPL) কী এবং কেন এটি প্রয়োজন?

আরপিএল মানে হলো ‘পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি’। অনেক কর্মী আছেন যারা কোনো স্কুলে না গিয়েও ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল বা কনস্ট্রাকশনের কাজে দারুণ দক্ষ। কিন্তু বিদেশে যেতে বা ভালো বেতনের চাকরিতে এই অভিজ্ঞতার প্রমাণ হিসেবে কোনো সার্টিফিকেট দেখাতে পারেন না। আরপিএল প্রোগ্রামের মাধ্যমে সরকার আপনার সেই কাজের পরীক্ষা নিয়ে আপনাকে একটি অফিশিয়াল সার্টিফিকেট প্রদান করবে।


আবেদনের যোগ্যতা ও সুযোগ-সুবিধাসমূহ

প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বয়সের নির্দিষ্ট সীমা পূরণ করে যে কেউ অনলাইনে বা নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন।

প্রধান সুবিধাসমূহ:

  • NTVQF সনদ: জাতীয় দক্ষতা মান অনুযায়ী লেভেল সনদ অর্জন, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
  • বিদেশে কর্মসংস্থান: প্রবাসে গমনেচ্ছুক কর্মীদের জন্য এই সনদ ভিসার আবেদন ও ভালো বেতনের ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক।
  • স্বল্পকালীন ওরিয়েন্টেশন: দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের প্রয়োজন নেই; কেবল স্বল্পকালীন ওরিয়েন্টেশন এবং অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমেই সনদ পাওয়া সম্ভব।
  • ভর্তুকি ও স্বল্প খরচ: এই প্রক্রিয়ায় আর্থিক খরচ অত্যন্ত সামান্য, কারণ সরকার এখানে বড় ধরণের ভর্তুকি প্রদান করছে।

প্রধান ট্রেডসমূহ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সুযোগ

বিশেষ করে নিচের খাতের অভিজ্ঞ কর্মীদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ:

১. ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল

২. কনস্ট্রাকশন ও প্লাম্বিং

৩. আইটি (IT) ও গ্রাফিক্স ডিজাইন

৪. গার্মেন্টস ও সেলাই

বিশেষ সুবিধা: নারী, প্রতিবন্ধী এবং সুবিধাবঞ্চিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীদের জন্য প্রকল্পে বিশেষ কোটা ও অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।


অ্যাসেট প্রকল্পের লক্ষ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব

বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক রূপান্তর। আরপিএল প্রোগ্রামের মাধ্যমে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিশাল জনশক্তিকে মূল ধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করা সম্ভব হবে, যা ২০৩০ সালের SDG লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।

লক্ষ্যফলাফল
দক্ষ জনশক্তিঅপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের রাষ্ট্রীয় সনদায়ন।
দারিদ্র্য বিমোচনদক্ষ কর্মীর উচ্চ বেতনের সুযোগ তৈরি।
শিল্প উৎপাদনকারখানায় দক্ষ শ্রমিকের যোগান বৃদ্ধি।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিবাংলাদেশের শ্রমবাজারের মান বিশ্ব দরবারে বৃদ্ধি।

FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

প্রশ্ন ১: আমি কতদিন কাজ করলে আবেদন করতে পারব?

উত্তর: সাধারণত সংশ্লিষ্ট ট্রেডে কমপক্ষে ১ থেকে ২ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকলে আবেদনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ২: সনদটি কি বিদেশে কাজের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে?

উত্তর: হ্যাঁ। এটি সরকারি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (NTVQF) অনুযায়ী প্রদান করা হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের অনেক দেশেও স্বীকৃত।


উপসংহার

আপনার যদি কাজের দক্ষতা থাকে কিন্তু সেটি প্রমাণের কোনো কাগজ না থাকে, তবে অ্যাসেট প্রকল্পের আরপিএল প্রোগ্রামে আবেদন করার এখনই উপযুক্ত সময়। আবেদনের শেষ সময়সীমার আগেই সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আপনার মেধা ও দক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিন। মনে রাখবেন, সঠিক দক্ষতাই হবে আপনার আগামীর পরিচয়।

কারিগরি শিক্ষা এবং অ্যাসেট প্রকল্পের সকল আপডেট ও আবেদনের লিংক সবার আগে পেতে নিয়মিত আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *