এনটিআরসিএ-কে নিয়ে ড. মিলনের বিস্ফোরক মন্তব্য: বিগত আমলের নিয়োগ বাণিজ্যের তীব্র সমালোচনা ও আমূল সংস্কারের ঘোষণা
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA) নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ ৮ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারগুলোর আমলে এনটিআরসিএ-কে দুর্নীতির একটি নিরাপদ প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছিল। নিয়োগ বাণিজ্য আর অনিয়মের কারণে হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন।” মন্ত্রী মিলন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের আধুনিক ও স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থায় এনটিআরসিএ-তে কোনো ধরণের অস্বচ্ছতা বা দুর্নীতির ঠাঁই হবে না।
ড. মিলনের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব: আমলাতান্ত্রিক অযোগ্যতা ও নিয়োগ বাণিজ্যের অবসান
শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্বে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বলিষ্ঠ, নীতিনিষ্ঠ ও আপসহীন উপস্থিতি বেসরকারি শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম, ঘুষ ও নিয়োগ বাণিজ্যের অবসান ঘটিয়েছে। অতীতে মাউশি, মাদরাসা বোর্ড বা এনটিআরসিএ-র ফাইল আটকে রাখা, ম্যানেজিং কমিটির অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং মেধাবীদের বছরের পর বছর বঞ্চিত করে যে মানসিক নিপীড়ন করা হতো, ড. মিলনের জিরো টলারেন্স (Zero Tolerance) নীতির কারণে তার আমূল অবসান ঘটেছে।
- পোল জাম্প পদ্ধতিতে ডিজিটাল নিয়োগ: ড. মিলনের বিখ্যাত ‘পোল জাম্প’ দর্শনের আলোকে সনাতন ফাইলের দীর্ঘসূত্রতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ডিঙিয়ে সরাসরি কেন্দ্রীয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় মেধাভিত্তিক পদায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
- তদবির ও দালালমুক্ত এনটিআরসিএ: মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শিক্ষক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কোনো সুপারিশ বা রাজনৈতিক তদবির আমলে নেওয়া হবে না। কোনো কর্মকর্তা ফাইলের জন্য ঘুষ দাবি করলে বা দালের আশ্রয় নিলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- নবাবগঞ্জ থেকে প্রান্তিক জনপদ: প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগ্য প্রার্থীরা যাতে ঢাকায় না এসেই নিজ ঘরে বসে তাদের অধিকার পান এবং মেধার ভিত্তিতে ঘরের কাছে পোস্টিং পান, ড. মিলনের যোগ্য টিম মাঠপর্যায়ে তা নিশ্চিত করছে।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসা প্রধান অভিযোগসমূহ
বিগত আমলের অব্যবস্থাপনা ও মেধা অবমূল্যায়ন নিয়ে মন্ত্রী বেশ কিছু গুরুতর পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন:
- সংগঠিত নিয়োগ বাণিজ্য: স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক তদবিরের মাধ্যমে অযোগ্যদের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল।
- সনদ ও নিবন্ধনে চরম গরমিল: মেধাবীরা নিবন্ধিত হওয়ার পরেও নিয়োগের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে তথ্য ও মেরিট লিস্ট জালিয়াতি করা হতো।
- ম্যানেজিং কমিটির অনৈতিক প্রভাব: অতীতে ম্যানেজিং কমিটির যে একচ্ছত্র ক্ষমতা ছিল, তা ব্যবহার করে প্রকৃত মেধাবীদের বঞ্চিত করার ও নিজস্ব লোক ঢোকানোর সুযোগ করে দিয়েছিল বিগত সরকারগুলো।
১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও সংস্কারের সুফল
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচির অন্যতম বড় সাফল্য হলো এনটিআরসিএ-র এই আমূল সংস্কার ও শুদ্ধি অভিযান:
১. স্মার্ট ও অটোমেটেড নিয়োগ পদ্ধতি: বর্তমানে দেশব্যাপী ১৩ হাজার প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং ১২,৯৫১ জন নতুন শিক্ষকের যে বিশাল নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়া চলছে, তা সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও নিখুঁত মেধা তালিকার ভিত্তিতে করা হচ্ছে।
২. সরাসরি ডিজিটাল তদারকি: নিয়োগপ্রাপ্তদের ডাটাবেজ এবং প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের হিসাব এখন থেকে কেন্দ্রীয় সার্ভার ও ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ক্রস-ম্যাচ করে যাচাই করা হচ্ছে।
৩. সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য সমতা: সরকার যখন ২ লাখ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর মাঝে ফ্রি ড্রেস ও কেডস বিতরণ কার্যক্রম সফল করছে, তখন সেই কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে সফল করতে সৎ ও মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগই বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
২০২৬ ও ২০২৭ সালের শিক্ষা সংস্কারের প্রভাব
২০২৬ ও ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় পরিবর্তন এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র পদ্ধতি সফল করতে মেধাভিত্তিক দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ অপরিহার্য। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সাল থেকে পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, তার জন্য দক্ষ, সৎ ও আইটিতে পারদর্শী শিক্ষকের কোনো বিকল্প নেই।
(উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি সরকারি চাকরির বয়সসীমা ৩২ বছর করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কারণে নতুন প্রজন্মের যোগ্য মেধাবীরা এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে শিক্ষকতায় আসতে আরও বেশি উৎসাহিত হচ্ছে, যা এ পেশাকে সমৃদ্ধ করবে)।
শিক্ষক রাজনীতি ও জনমত
সাম্প্রতিক এক দেশব্যাপী জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৭৬ শতাংশ মানুষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রাজনীতির তীব্র বিপক্ষে। মন্ত্রী মিলন এই জনমতের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মনে করেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলো এনটিআরসিএ-কে ব্যবহার করে দলীয় ক্যাডার ঢোকানোর চেষ্টা করত। কিন্তু বর্তমান সরকার চায় শিক্ষকরা রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি ও দলাদলি ছেড়ে সম্পূর্ণ সময় ডিজিটাল ল্যাবে কন্টেন্ট তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের আধুনিক মেন্টরিংয়ে ব্যয় করুক। শিক্ষকদের জন্য প্রস্তাবিত স্বতন্ত্র পে-স্কেল ও উৎসব ভাতা বা অবসর সুবিধা নিয়ে চলমান ইতিবাচক আলোচনা এই পেশাদারিত্বকে আরও বাড়িয়ে দেবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: একটি আদর্শ ‘স্মার্ট এনটিআরসিএ’
মন্ত্রী মিলন ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে এনটিআরসিএ হবে একটি সম্পূর্ণ ‘স্মার্ট এবং অটোমেটেড’ প্রতিষ্ঠান। যেখানে প্রার্থীরা তাদের আবেদনের অবস্থা, ফলাফল এবং মেধা তালিকা সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে অনলাইনে দেখতে পারবেন। কোনো মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ বা ম্যানুয়াল ফাইল প্রসেসিং ছাড়াই সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়োগের প্রাথমিক সুপারিশ ও কলেজ পোস্টিং সম্পন্ন হবে।
উপসংহার
এনটিআরসিএ-কে নিয়ে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের এই দৃঢ় অবস্থান ও সংস্কারমুখী পদক্ষেপ দেশের লক্ষ লক্ষ নিবন্ধিত শিক্ষক প্রার্থীদের মধ্যে আস্থার এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি করেছে। অযোগ্যতা ও বিশৃঙ্খলামুক্ত শিক্ষাকাঠামো এবং সঠিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে ২০২৬ সালের সমৃদ্ধ ও দুর্নীতিমুক্ত স্মার্ট বাংলাদেশ।
FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. এনটিআরসিএ-র নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে?
উত্তর: ড. মিলনের নির্দেশনা অনুযায়ী এনটিআরসিএ-কে একটি ‘স্মার্ট ও অটোমেটেড’ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে, যেখানে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়া বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে শতভাগ মেধা ও শূন্যপদের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় নিয়োগের সুপারিশ করা হবে।
২. বিগত আমলের ম্যানেজিং কমিটির নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়ম বন্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
উত্তর: এনটিআরসিএ-র কেন্দ্রীয় ডিজিটাল মনিটরিং ও মেধা তালিকা ভিত্তিক পদায়ন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বা ম্যানেজিং কমিটির অযাচিত হস্তক্ষেপ ও নিয়োগ বাণিজ্যের সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে।
