শিক্ষা

ডিআইএ-র দুর্নীতি সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর ড. মিলন: অডিটের নামে শিক্ষকদের হয়রানি বন্ধে জিরো টলারেন্স

বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা ছিল যে প্রতিষ্ঠানের, সেই পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (DIA) এখন নিজেই তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে। বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পরিদর্শনে গিয়ে অডিটের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে বড় অংকের অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির এক শ্রেণির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আজ ৯ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ডিআইএ-র এই দুর্নীতির সিন্ডিকেট নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত অনেক সরকারি কলেজের শিক্ষক এখন ক্লাসরুম ছেড়ে ডিআইএ-তে বদলি হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন, যার মূল কারণ হলো সেখানকার ‘অবৈধ আয়ের’ সুযোগ।


ড. মিলনের বলিষ্ঠ leadership: অযোগ্যতা ও বিশৃঙ্খলার অবসান

শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্বে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বলিষ্ঠ উপস্থিতি শিক্ষা ব্যবস্থায় বছরের পর বছর ধরে চলা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার টুটি চেপে ধরেছে। তিনি মনে করেন, যারা শিক্ষকদের অভিভাবক হওয়ার কথা, তারা যদি শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তবে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

  • পোল জাম্প সংস্কার: ড. মিলনের বিখ্যাত ‘পোল জাম্প’ দর্শনের আলোকে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘুষের বিনিময়ে ভালো রিপোর্ট দেওয়ার পুরনো সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর মন্ত্রণালয়।
  • বদলির ইঁদুর দৌড় বন্ধ: সুনির্দিষ্ট কাজ ফেলে বা ক্লাসরুম ছেড়ে যারা প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে ডিআইএ-তে ডেপুটেশনে এসে ‘তদন্ত বাণিজ্য’ করতে চান, তাঁদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী মিলন।
  • নবাবগঞ্জ থেকে ডিআইএ: তৃণমূলের সাধারণ শিক্ষকরা যেন কোনো অসাধু কর্মকর্তার ব্ল্যাকমেইলের শিকার না হন, সে লক্ষে ড. মিলনের যোগ্য টিম কাজ শুরু করেছে।

ঘুষের নতুন রেট: ১ মাসের এমপিও!

ডিআইএ-র তদন্ত ও অডিট নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী এই সিন্ডিকেটের ভয়াবহ রূপ প্রকাশ পেয়েছে:

১. জোরপূর্বক আদায়: তদন্ত দল কোনো প্রতিষ্ঠানে গেলেই ভয়ভীতি দেখিয়ে বলা হয়, “রিপোর্ট ভালো চাইলে সবাইকে এক মাসের পুরো এমপিও (MPO) টাকা ঘুষ হিসেবে দিতে হবে।”

২. হয়রানির ভয়: প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাদরাসা ও বেসরকারি কলেজগুলোকে টার্গেট করে এই হুমকি দেওয়া হয় যে, টাকা না দিলে ভুয়া অডিট রিপোর্ট তৈরি করে এমপিও বন্ধের সুপারিশ করা হবে।


১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও প্রযুক্তির ব্যবহার

শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষিত ১৮০ দিনের বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষা প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও দালালের দৌরাত্ম্যমুক্ত করা।

  • ডিজিটাল অডিট সিস্টেম: ডিআইএ-র সনাতন এনালগ অডিট পদ্ধতি তুলে দিয়ে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও অনলাইন অডিট সিস্টেম চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী মিলন।
  • ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও মনিটরিং: ডিআইএ কর্মকর্তাদের মুভমেন্ট সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে জিপিএস ট্র্যাকিং ও প্রযুক্তির মাধ্যমে তদারকি করা হবে।
  • ডিজিটাল ফাইল ট্র্যাকিং ও GRS: শিক্ষা ভবনের মতো ডিআইএ-তেও ডিজিটাল ফাইল ট্র্যাকিং কার্যকর করা হচ্ছে। কোনো কর্মকর্তা টাকা দাবি করলে শিক্ষকরা যেন সরাসরি ‘অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা’ (GRS) বা হটলাইনের মাধ্যমে জানাতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

২০২৬ ও ২০২৭ সালের শিক্ষা সংস্কার ও শিক্ষকদের মর্যাদা

২০২৬ ও ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় পরিবর্তন এবং ২০২৭ সাল থেকে পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, তা সফল করতে শিক্ষকদের মানসিক প্রশান্তি জরুরি।

  • শিক্ষকদের সুরক্ষা: মন্ত্রী মিলন মনে করেন, শিক্ষকদের যদি অডিটের নামে মানসিকভাবে হয়রানি করা হয়, তবে তারা ক্লাসে পাঠদানে মনোযোগ দিতে পারবেন না।
  • মেধাবীদের আকর্ষণ: সরকারি চাকরির বয়সসীমা ৩২ বছর করার কারণে এখন অনেক মেধাবী তরুণ শিক্ষকতায় আসছেন। তাঁদের জন্য একটি আদর্শিক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ডিআইএ-কে কলঙ্কমুক্ত করা অপরিহার্য।(উল্লেখ্য যে, সরকার ইতিমধ্যে ২ লাখ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর মাঝে ফ্রি ড্রেস ও কেডস বিতরণ করেছে, যার তদারকিতেও স্বচ্ছতা আনা হচ্ছে)

শিক্ষক রাজনীতি বনাম পরিদর্শন ব্যবস্থা

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৭৬ শতাংশ মানুষ শিক্ষক রাজনীতির বিপক্ষে। অথচ ডিআইএ-র অনেক অসাধু কর্মকর্তা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে দিনের পর দিন এই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থাপনা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেখানে কেবল মেধা, সততা ও পেশাদারিত্বের মূল্যায়ন হবে।


উপসংহার

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (DIA) এই ইমেজ সংকট দূর করা ২০২৬ সালের শিক্ষাঙ্গনের সবচেয়ে বড় দাবি। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কঠোর অবস্থান এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে এই ঘুষ সিন্ডিকেট ভাঙা সময়ের ব্যাপার মাত্র। অযোগ্যতা ও বিশৃঙ্খলামুক্ত একটি আধুনিক শিক্ষাকাঠামো গড়ার মাধ্যমে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এক স্মার্ট ও আলোকিত বাংলাদেশের দিকে।


FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১. ডিআইএ (DIA) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ঘুষের অভিযোগ থাকলে শিক্ষকরা কোথায় জানাবেন?

উত্তর: ড. মিলনের বিশেষ নির্দেশনায় চালুকৃত অনলাইন ‘অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা’ (GRS) এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট হটলাইনের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে।

২. দুর্নীতি বন্ধে ডিআইএ-র অডিট পদ্ধতিতে কী পরিবর্তন আসছে?

উত্তর: পুরনো এনালগ পদ্ধতি বাতিল করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও অনলাইন অডিট সিস্টেম চালু করা হচ্ছে, যা সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে মনিটর করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *