শিক্ষা

ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে মাউশির নির্দেশিকা: ‘নৈপুণ্য’ অ্যাপে যুক্ত হচ্ছে ডিজিটাল রিপোর্ট কার্ড

দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির নতুন শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। প্রচলিত মুখস্থ নির্ভর পরীক্ষার পরিবর্তে এখন থেকে অভিজ্ঞতাভিত্তিক ও শিখনকালীন মূল্যায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা মূলত সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মূল্যায়নের একটি অভিন্ন এবং স্বচ্ছ কাঠামো নিশ্চিত করবে।

ডিজিটাল মূল্যায়নে ‘নৈপুণ্য’ অ্যাপের ব্যবহার

নতুন শিক্ষাক্রমের মূল্যায়নের তথ্য এখন আর কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মাউশি নির্দেশ দিয়েছে যে, শিক্ষকদের প্রতিটি পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (PI) এবং আচরণগত ইন্ডিকেটর (BI) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এন্ট্রি করতে হবে।

প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের প্রধান দিকসমূহ:

  • নৈপুণ্য অ্যাপ: শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের তথ্য এন্ট্রি ও সংরক্ষণের জন্য ‘নৈপুণ্য’ নামক বিশেষ অ্যাপ ও ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
  • স্বয়ংক্রিয় ট্রান্সক্রিপ্ট: অ্যাপে তথ্য ইনপুট দেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের রিপোর্ট কার্ড বা ট্রান্সক্রিপ্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেট হবে, যা শিক্ষকদের কাজের চাপ কমাবে।
  • অভিভাবকদের অ্যাক্সেস: ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির ফলে অভিভাবকরা খুব সহজেই সন্তানের একাডেমিক উন্নতির গ্রাফ পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

শিখনকালীন ও সামষ্টিক মূল্যায়নের সমন্বয়

নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মাউশির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কেবল সামষ্টিক মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করা যাবে না।

১. শিখনকালীন মূল্যায়ন (Continuous Assessment): বছরব্যাপী চলা বিভিন্ন শিখন কার্যক্রম, দলগত কাজ এবং ব্যবহারিক পারদর্শিতার ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হবে।

২. সামষ্টিক মূল্যায়ন (Summative Assessment): ষাণ্মাসিক এবং বার্ষিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দক্ষতা যাচাই করা হবে।

শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা প্রতিটি সেশনে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, অংশগ্রহণ এবং আচরণের সঠিক রেকর্ড বা ডায়েরি রক্ষণাবেক্ষণ করেন। এটি শিক্ষার্থীর সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব ও মেধার প্রতিফলন ঘটাবে।

প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা

মাউশির এই নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা: প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক যেন নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি বুঝতে পারেন এবং তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • জবাবদিহিতা: মূল্যায়নের তথ্য এন্ট্রিতে কোনো ধরণের অবহেলা বা ভুল তথ্য প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে জবাবদিহি করতে হবে।
  • নিবিড় মনিটরিং: মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা নিয়মিত স্কুল পরিদর্শন করবেন এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করবেন।

FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

প্রশ্ন ১: ‘নৈপুণ্য’ অ্যাপে তথ্য এন্ট্রি করার সময়সীমা কতদিন?

উত্তর: মাউশি কর্তৃক নির্ধারিত প্রতিটি মূল্যায়নের (ষাণ্মাসিক বা বার্ষিক) পর একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়, যার মধ্যেই তথ্য এন্ট্রি সম্পন্ন করতে হবে।

প্রশ্ন ২: কোনো শিক্ষার্থী মূল্যায়নের দিন অনুপস্থিত থাকলে কী হবে?

উত্তর: নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী বিশেষ কারণে অনুপস্থিত থাকলে তার মূল্যায়নের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে সে পিছিয়ে না পড়ে।

উপসংহার

মাউশির এই নতুন নির্দেশনা মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এক অনন্য মাইলফলক। প্রচলিত পরীক্ষার ভীতি কাটিয়ে শিখনকালীন শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া এবং ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করা আধুনিক স্মার্ট শিক্ষা ব্যবস্থারই বহিঃপ্রকাশ। অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই মূল্যায়ন পদ্ধতি আমাদের শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষ ও বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

নতুন শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন সংক্রান্ত যেকোনো আপডেট এবং কারিগরি সহায়তা সবার আগে পেতে নিয়মিত আমাদের পোর্টালে চোখ রাখুন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *