শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ছাড়া ক্লাসরুমে পাঠানো উচিত নয়: এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনতে শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন এনডিএম (NDM) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোনো শিক্ষককে প্রয়োজনীয় এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান না করে সরাসরি ক্লাসরুমে পাঠদানের জন্য পাঠানো উচিত নয়। তাঁর মতে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য দালানকোঠা বা অবকাঠামোর চেয়েও দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশিক্ষণহীন পাঠদান ও আধুনিক শিক্ষার চ্যালেঞ্জ
ববি হাজ্জাজ মনে করেন, বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল জ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মেলাতে হলে শিক্ষকদের নিয়মিত রিফ্রেশার কোর্স এবং আধুনিক শিখন পদ্ধতির সাথে পরিচিত হতে হবে। যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া পাঠদান করলে শিক্ষার্থীরা সঠিক ও গভীর জ্ঞান লাভ থেকে বঞ্চিত হয়।
ববি হাজ্জাজের উত্থাপিত প্রধান দিকসমূহ:
- জাতীয় প্রশিক্ষণ কাঠামো: শিক্ষকদের জন্য একটি শক্তিশালী জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ে তোলা।
- পেডাগজি (Pedagogy) জ্ঞান: মেধাবী ব্যক্তিরা শিক্ষকতায় আসলেও অনেকের আধুনিক শিক্ষা প্রকৌশল সম্পর্কে ধারণা থাকে না; এই শূন্যতা পূরণে দীর্ঘমেয়াদী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ জরুরি।
- স্মার্ট শিক্ষক, স্মার্ট প্রজন্ম: চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও এআই (AI) যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে হলে সবার আগে স্মার্ট ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিশ্চিত করতে হবে।
নতুন কারিকুলাম ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা
নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের চাবিকাঠি শিক্ষকের হাতে বলে মনে করেন ববি হাজ্জাজ। কারিকুলাম যত উন্নতই হোক না কেন, শিক্ষক নিজে পদ্ধতিটি আয়ত্ত করতে না পারলে এর সুফল শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাবে না।
পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের প্রস্তাবনা:
১. আন্তর্জাতিক মানের কর্মশালা: শিক্ষকদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে নিয়মিত কর্মশালার আয়োজন।
২. প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা: প্রতিটি শিক্ষকের জন্য বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাধ্যতামূলক আইসিটি (ICT) প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।
৩. সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করা: শিক্ষকদের কেবল প্রশাসনিক নির্দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সৃজনশীল চিন্তাকে গুরুত্ব দেওয়া।
শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ ও নীতিগত দাবি
শিক্ষা খাতে বড় বরাদ্দ কেবল অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় না করে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যয়ের দাবি জানিয়েছেন এনডিএম চেয়ারম্যান। তিনি মনে করেন, শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ।
সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান:
- জেলা ভিত্তিক কেন্দ্র: প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত ‘শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ স্থাপন করা।
- মর্যাদা ও জবাবদিহিতা: শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি পেশাদারিত্বের খাতিরে জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা।
- গবেষণা ও উন্নয়ন: শিক্ষকদের গবেষণামুখী করতে প্রয়োজনীয় তহবিল ও সুযোগ সৃষ্টি করা।
FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
প্রশ্ন ১: ববি হাজ্জাজ কেন অবকাঠামোর চেয়ে শিক্ষকের প্রশিক্ষণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন?
উত্তর: তাঁর মতে, আধুনিক সরঞ্জাম বা ভবন থাকলেও যদি শিক্ষক তা ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি না জানেন, তবে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হবে না। দক্ষ শিক্ষকই শ্রেণিকক্ষকে প্রাণবন্ত করতে পারেন।
প্রশ্ন ২: নতুন শিক্ষকদের জন্য তাঁর প্রস্তাব কী?
উত্তর: তিনি প্রস্তাব করেছেন যে, নিয়োগ পাওয়ার পরপরই কোনো শিক্ষককে সরাসরি ক্লাসে না পাঠিয়ে প্রথমে দীর্ঘমেয়াদী এবং কার্যকরী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ প্রদান করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
উপসংহার
ববি হাজ্জাজের এই প্রস্তাবটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি মৌলিক দুর্বলতাকে চিহ্নিত করেছে। প্রশিক্ষণ ছাড়া ক্লাসরুমে পাঠানোর সংস্কৃতি বন্ধ হলে শিক্ষার মান যেমন বাড়বে, তেমনি শিক্ষার্থীরাও সঠিক দিকনির্দেশনা পাবে। দক্ষ ও বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষকই একটি সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজের মূল চাবিকাঠি। আমরা আশা করি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।
দেশের শিক্ষা ও রাজনৈতিক খাতের সর্বশেষ সংবাদ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ সবার আগে দ্রুত পেতে নিয়মিত আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।
