নারী শিক্ষার বিপ্লব ও বেগম খালেদা জিয়ার কালজয়ী উদ্যোগ: ড. মিলনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ‘স্মার্ট’ আগামীর পথে যাত্রা
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে নারী শিক্ষার আমূল পরিবর্তনের কথা বলতে গেলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। নব্বইয়ের দশকে তাঁর সরকারের গৃহীত যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো কেবল অশিক্ষার অন্ধকার দূর করেনি, বরং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে বদলে দিয়ে নারীর ক্ষমতায়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। আজ সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই বর্তমান সরকার ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখছে।
নারী শিক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক অবদান
১৯৯১ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়ার সরকার অনুধাবন করেছিল যে, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়।
- বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি: ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং দেশব্যাপী উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু করা হয়। এটি ছিল দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি রোল মডেল, যা গ্রামীণ পর্যায়ে স্কুল থেকে মেয়েদের ঝরে পড়া রোধে ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করে।
- প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলককরণ: বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয় এবং ‘খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা’র মতো সৃজনশীল কর্মসূচি চালু করা হয়, যা দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের বিদ্যালয়ে মুখী করেছিল।
- নারী শিক্ষক নিয়োগ: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষক নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি প্রবর্তন করা হয়, যা সামাজিক বাধা দূর করে মেয়ে শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর ক্ষেত্রে অভিভাবকদের মনে আস্থা তৈরি করেছিল।
ড. মিলনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আধুনিকায়নের নতুন যুগ
বেগম খালেদা জিয়ার সেই শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা ব্যবস্থাকে ‘স্মার্ট’ ও বিশ্বমানে উন্নীত করতে কাজ করছেন।
- ডিজিটাল ও স্মার্ট এডুকেশন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ড. মিলন উপবৃত্তি বিতরণ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও ক্যাশলেস করেছেন। এখন আর টাকা পেতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হতে হয় না, সরাসরি মায়ের মোবাইলে পৌঁছে যাচ্ছে উপবৃত্তির টাকা।
- পোল জাম্প সংস্কার: ড. মিলনের বিখ্যাত ‘পোল জাম্প’ সংস্কারের মাধ্যমে নারী শিক্ষার হারকে কেবল সংখ্যায় নয়, বরং গুণগত মানে উন্নীত করা হচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, বেগম খালেদা জিয়া যে নারী শিক্ষার বিপ্লব শুরু করেছিলেন, তাকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করাই বর্তমান সময়ের প্রধান লক্ষ্য।
- নবাবগঞ্জ থেকে অনুপ্রেরণা: ড. মিলনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে নবাবগঞ্জসহ সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আজ ছাত্রীদের শতভাগ উপস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও নারীর সুরক্ষা
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বলিষ্ঠ তদারকিতে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার আওতায় নারী শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
- ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ রোধ: স্কুল ও কলেজগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে ড. মিলন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নারী শিক্ষার পথে কোনো বাধাই সহ্য করা হবে না।
- যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ড. মিলনের যোগ্য টিম কাজ করে যাচ্ছে, যা বেগম খালেদা জিয়ার সেই স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
উপসংহার
বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী শিক্ষা নীতি আজ বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে নারী শিক্ষার মডেলে পরিণত করেছে। তাঁর প্রবর্তিত উপবৃত্তি ও অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা আজ দেশের প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিয়েছে। আর বর্তমান মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সেই আলো আরও উজ্জ্বল হয়ে ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’র পথ দেখাচ্ছে। অযোগ্যতা ও বিশৃঙ্খলামুক্ত একটি আধুনিক শিক্ষাকাঠামো গড়তে ড. মিলন এবং তাঁর টিম অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন।
FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার উন্নয়নে কোন কর্মসূচিটি প্রধানত চালু করেছিলেন? উত্তর: দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং দেশব্যাপী নারী শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচি তাঁর হাত ধরেই শুরু হয়েছিল।
২. বর্তমান শিক্ষা প্রশাসন নারী শিক্ষাকে কীভাবে এগিয়ে নিচ্ছে? উত্তর: ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে উপবৃত্তি বিতরণকে ডিজিটাল করা হয়েছে এবং ‘স্মার্ট এডুকেশন’ এর মাধ্যমে ছাত্রীদের কারিগরি ও উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করা হচ্ছে।
