বৃত্তিকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ: ড. মিলনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মেধা যাচাইয়ের নতুন দিগন্ত
দীর্ঘ ১৫ বছর পর পুনরায় চালু হওয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ নিয়ে সারা দেশে যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, তার বাস্তব চিত্র সচক্ষে দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সকালে তিনি ঢাকা মহানগরীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ঘুরে দেখেন এবং পরীক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ড. মিলনের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও স্বচ্ছ পরীক্ষার নিশ্চয়তা
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে শিক্ষা প্রশাসনে যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তার প্রতিফলন ঘটেছে এই বৃত্তি পরীক্ষায়। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “মাননীয় মন্ত্রী ড. মিলনের বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনায় আমরা পরীক্ষার হলগুলোতে এমন একটি সিস্টেম গড়ে তুলেছি যেখানে অযোগ্যতা, বিশৃঙ্খলা বা জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই।”
- অযোগ্যতা ও বিশৃঙ্খলার অবসান: বিগত বছরগুলোতে পরীক্ষা নিয়ে যে ধরণের অনিয়মের অভিযোগ ছিল, ড. মিলনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে তা এখন শূন্যের কোঠায়। প্রশ্নপত্র বণ্টন থেকে শুরু করে খাতা মূল্যায়ন—প্রতিটি ধাপে ডিজিটাল মনিটরিং নিশ্চিত করা হয়েছে।
- পোল জাম্প সংস্কার: ড. মিলনের বিখ্যাত ‘পোল জাম্প’ সংস্কারের আওতায় প্রাথমিক স্তর থেকেই মেধাবীদের খুঁজে বের করার এই প্রক্রিয়াটি শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
বৈষম্যহীন মেধা যাচাই ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের সুযোগ
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ স্পষ্টভাবে জানান যে, বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো বৈষম্য রাখা হয়নি।
১. কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ: ড. মিলনের বিশেষ নির্দেশনায় কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও ২০ শতাংশ কোটার আওতায় বৃত্তি পাবে। সরকার চায় প্রতিটি মেধাবী শিশু তার যোগ্যতার মর্যাদা পাক।
২. নবাবগঞ্জ থেকে সাতক্ষীরা—দেশজুড়ে উদ্দীপনা: ড. মিলনের এই বৈষম্যহীন শিক্ষানীতি তাঁর নিজ এলাকা নবাবগঞ্জসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে প্রশংসিত হয়েছে।
স্মার্ট প্রাথমিক শিক্ষা ও প্রযুক্তির ব্যবহার
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১’ ভিশনের কথা তুলে ধরে বলেন, “বৃত্তির টাকা এখন সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মায়েদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, যা আমাদের স্মার্ট এডুকেশন সিস্টেমের একটি সফল উদাহরণ।”
- নিরাপদ প্রযুক্তি: ড. মিলনের যোগ্য টিম নিশ্চিত করেছে যে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে মেধা তালিকার স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
- মানসিক চাপমুক্ত শিক্ষা: কোমলমতি শিশুদের মাঝে যেন পরীক্ষার ভীতি না থাকে, সেজন্য ড. মিলনের নির্দেশনায় আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
অনুপস্থিতি ও সচেতনতা বৃদ্ধি
দেশের কিছু জেলায় পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ বিরতির পর পরীক্ষা শুরু হওয়ায় কিছুটা প্রস্তুতির ঘাটতি থাকতে পারে। তবে ড. মিলনের নেতৃত্বে মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বাড়িয়ে আগামী বছরগুলোতে এই হার শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। যারা এবার অংশ নিয়েছে, তারাই আগামী দিনে অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে।
উপসংহার
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের এই কেন্দ্র পরিদর্শন প্রমাণ করে যে, বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কতটা আন্তরিক। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগ যে শৃঙ্খলার পথে হাঁটছে, এই বৃত্তি পরীক্ষা তার একটি সফল মাইলফলক। আমরা আশা করি, এই পরীক্ষার মাধ্যমে উঠে আসা মেধাবীরাই আগামীর সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ পরিচালনা করবে।
FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. ড. মিলনের নেতৃত্বে এই পরীক্ষার বিশেষত্ব কী?
উত্তর: ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
২. কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরা কি বৃত্তি পাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, ড. মিলনের নির্দেশে এবার কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও ২০ শতাংশ কোটার আওতায় এই সুযোগ পাবে।
