পাহাড়ে মেধা যাচাইয়ের নতুন জোয়ার: খাগড়াছড়িতে ড. মিলনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে উৎসবমুখর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা
বাংলাদেশের সমতলের পাশাপাশি পাহাড়ের জনপদেও আজ বেজেছে মেধা যাচাইয়ের সুর। দীর্ঘ ১৫ বছর পর পুনরায় চালু হওয়া ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬’ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাতেও অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে জেলার ৮টি উপজেলার নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে খুদে পরীক্ষার্থীরা তাদের জীবনের প্রথম বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে উপস্থিত হয়। ১৬ বছর পর এই পরীক্ষা ফিরে আসায় খাগড়াছড়ির নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার।
ড. মিলনের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব: পাহাড় ও সমতলে বৈষম্যহীন শিক্ষা
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে শিক্ষা প্রশাসনে যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তার সুফল এখন পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চলেও দৃশ্যমান। ড. মিলন বিশ্বাস করেন, মেধার বিকাশে ভৌগোলিক অবস্থান কোনো বাধা হতে পারে না।
- অযোগ্যতা ও বিশৃঙ্খলার অবসান: আগে পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে স্থবিরতা ছিল, ড. মিলনের বলিষ্ঠ তদারকিতে তা এখন গতিশীল। ১৬ বছর পর এই পরীক্ষা চালু করার সাহসী সিদ্ধান্তটি পাহাড়ের শিশুদের মেধা বিকাশে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
- পোল জাম্প সংস্কার: ড. মিলনের বিখ্যাত ‘পোল জাম্প’ সংস্কারের আওতায় খাগড়াছড়ির নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা এখন ঢাকার শিক্ষার্থীদের মতোই একই মানদণ্ডে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছে।
- নবাবগঞ্জ থেকে খাগড়াছড়ি: ড. মিলনের এই বৈষম্যহীন শিক্ষানীতি তাঁর নিজ এলাকা নবাবগঞ্জ থেকে শুরু করে পাহাড়ের প্রতিটি পাড়ায় প্রশংসিত হচ্ছে।
খাগড়াছড়িতে পরীক্ষার চালচিত্র ও উৎসবের আমেজ
খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রতিটি উপজেলায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
১. নৃ-গোষ্ঠীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ: পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পাড়ি দিয়ে রঙিন স্কুল ড্রেস ও নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাকে খুদে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছে। রঙিন উপস্থিতিতে পাহাড়ের মেধার এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে।
২. অভিভাবকদের সন্তোষ: স্থানীয় এক অভিভাবক জানান, “বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ের শিশুদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মানসিকতা কমে গিয়েছিল। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্যারের এই সাহসী সিদ্ধান্তে আমরা কৃতজ্ঞ।”
প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা
ড. মিলনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন পরীক্ষাটি শতভাগ স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
- নিরাপদ প্রযুক্তি: পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে ডিজিটাল মনিটরিং নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র বণ্টন থেকে শুরু করে ফলাফল প্রস্তুত—সবখানেই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে।
- বিশেষ তদারকি: দুর্গম এলাকা থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করছে।
স্মার্ট এডুকেশন ও আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ভিশন হলো ২০৪১ সালের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষে পাহাড়ের প্রতিটি শিশুকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।
- সরাসরি সুবিধা: বৃত্তির টাকা এখন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি মায়েদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
- ঝরে পড়া রোধ: এই বৃত্তি পরীক্ষা পাহাড়ের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার (Drop-out rate) কমাতে এবং মেধার জয়গান গাইতে ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
উপসংহার
খাগড়াছড়িতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি পরীক্ষা নয়, বরং এটি পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া শিশুদের এগিয়ে যাওয়ার নতুন স্বপ্ন। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সঠিক তদারকির মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগ যে শৃঙ্খলার পথে হাঁটছে, খাগড়াছড়ির এই প্রাণচাঞ্চল্য তারই এক সফল উদাহরণ। আমরা আশা করি, পাহাড়ের এই খুদে মেধাবীরাই আগামীর সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশে নেতৃত্ব দেবে।
FAQ – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. খাগড়াছড়ির দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা কীভাবে অংশ নিচ্ছে?
উত্তর: ড. মিলনের নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস যাতায়াত ও নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে, যাতে দুর্গম এলাকার শিশুরাও নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।
২. বৃত্তির টাকা কীভাবে প্রদান করা হবে?
উত্তর: স্মার্ট এডুকেশন সিস্টেমের আওতায় বৃত্তির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীর মায়ের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে।
